নিউজ ডেস্ক | BangaAkhbar.in
পাহালগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা, জম্মু ও কাশ্মীর: সম্প্রতি, ২০২৫ এর ২২শে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাম অঞ্চলে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০ জনেরও বেশি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালী নাগরিক ছিলেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, যেমন আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং দ্য হিন্দু, এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জঙ্গিরা পহেলগামের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বাইসারন তৃণভূমিতে অতর্কিত হামলা চালায়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা নিরীহ পর্যটক। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন অফিসারও ছিলেন, যিনি মধুচন্দ্রিমার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। হামলার সময় পর্যটকরা ঘোড়ায় চড়া, পিকনিক এবং স্থানীয় খাবারের দোকানে সময় কাটাচ্ছিলেন।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক হামলায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় ওই পর্যটনকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ছিল। হামলার পর, নিরাপত্তা বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। সরকার এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিরীহ পর্যটকদের উপর কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট কমিটির নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের অ্যাটারি ওয়াঘা পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া এবং বহুলচর্চিত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করা। এই হামলার তীব্র নিন্দা করে সরকার জানিয়েছে, এর পিছনে থাকা অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
পাহালগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বাসভবনে ক্যাবিনেট কমিটির নিরাপত্তা বিষয়ক (CCS) একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সহ অন্যান্য শীর্ষ মন্ত্রী ও আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পাহালগামের সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই বিষয়ে রণনীতি নির্ধারণ করা হয়।
পাহালগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা: প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কঠোর বার্তা
বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই হামলার তীব্র নিন্দা করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই কাপুরুষোচিত হামলার পিছনে যারা রয়েছে, তাদের এবং এর মদতদাতাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ভারত সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে অবিচল রয়েছে বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানান। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রাজনাথ সিং বলেন, “পাহালগামের এই কাপুরুষোচিত ঘটনায় আমরা বহু নিরীহ জীবন হারিয়েছি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। যারা এই কাজ করেছে এবং এর পিছনে রয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তরা এর যোগ্য জবাব পাবে, আমি দেশবাসীকে এই আশ্বাস দিতে চাই।”
ভাষণের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করেন। সেখানে কাশ্মীর উপত্যকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাশ্মীর সফর
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকালই জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছান। তিনি সরাসরি অনন্তনাগের সরকারি মেডিকেল কলেজে যান এবং সেখানে আহতদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি হামলার ঘটনাস্থল পাহালগামের বাইসারান তৃণভূমিতে যান। সেখানে পৌঁছানোর আগে তিনি আকাশপথে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং পরে ঘটনাস্থলে নেমে স্থানীয় নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন ও পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করেন।
উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর শোক
পাহালগামের এই ভয়াবহ হামলায় নিহতদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের দুই বাসিন্দা শুভম দ্বিবেদী ও সুদীপের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জ্ঞাপন করেন।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতা
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পাহালগামে আটকে পড়া পর্যটকদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। মহারাষ্ট্র সরকার এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পাহালগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা: কানাডার প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘বিবেকহীন ও মর্মান্তিক সহিংস acts’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল

কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) বৈঠকে যোগ দেবেন।
কানপুরের ব্যবসায়ীর দেহ আজ পৌঁছাবে
পাহালগামের হামলায় নিহত কানপুরের ৩১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী শুভম দ্বিবেদীর দেহ আজ সকালে তাঁর বাড়িতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কানপুরের জেলাশাসক জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, বিশেষ বিমানে লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ দেহ পৌঁছানোর কথা। এরপর সড়কপথে দেহ কানপুরে আনা হবে এবং আজ সকালেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আজ সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শুভমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এবং রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই কানপুরে তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দেবেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে কানপুরের ব্যবসায়ীরা আজ দুপুর দুটো পর্যন্ত শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা নয়াবগঞ্জ ক্রসিং-এ একত্রিত হয়ে এই হামলার প্রতিবাদে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।
শুভম দ্বিবেদী গত ১২ই ফেব্রুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং গত ১৬ই এপ্রিল স্ত্রী ও পরিবারের নয়জন সদস্যের সঙ্গে কাশ্মীর ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সোনমার্গ ও গুলমার্গ ঘুরে তাঁরা পাহালগামে পৌঁছেছিলেন।
পাহালগামের হামলার পর রাজস্থানে নিরাপত্তা জোরদার
পাহালগামের হামলার পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখার কথা বলেন।
কলকাতায় সমীর গুহের শেষকৃত্য

পাহালগামের সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত কলকাতার বাসিন্দা সমীর গুহের শেষকৃত্য গতকাল সম্পন্ন হয়েছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও মোমবাতি মিছিল
পাহালগামের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল জম্মু ও কাশ্মীর এবং অন্যান্য রাজ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও মোমবাতি vigil অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং তাদের পতাকা ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে। সাধারণ মানুষ মোমবাতি হাতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
দিল্লিতে আম আদমি পার্টি (AAP) যন্তর মন্তরে এবং কংগ্রেসের যুব শাখা রাইসিনা রোডে মোমবাতি মিছিল করে। দিল্লির বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদে সামিল হয় এবং ২৫শে এপ্রিল দিল্লি বনধের ডাক দেয়। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি, এনএসইউআই এবং এআইএসএফ-এর মতো প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলি যৌথভাবে মোমবাতি মিছিল করে এই হামলার নিন্দা জানায়। মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনও যন্তর মন্তরে মোমবাতি vigil-এ অংশ নেয়।
গত ৩৫ বছরে এই প্রথম কাশ্মীর উপত্যকায় এই হামলার প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্ত বনধ পালিত হয়েছে। শ্রীনগরের লাল চকের ঐতিহাসিক ঘান্টা ঘর প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে মিছিল করে একত্রিত হন। শ্রীনগরের বাসিন্দা হাজী বশির আহমেদ দার বলেন, “এটা কাশ্মীর এবং ইসলামের নামে হওয়া উচিত নয়। ইসলামে একটি নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া সমগ্র মানবজাতিকে হত্যার শামিল।” রাজৌরি, পুঞ্চ, ডোডা, কিশ্তওয়ার ও বানিহালের মুসলিম সংগঠনগুলিও এই হামলার প্রতিবাদে মিছিল করে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায়।
বিসিসিআই-এর শ্রদ্ধাঞ্জলি

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) গতকাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH) এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (MI) মধ্যে আইপিএল ম্যাচের আগে পাহালগামের হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। খেলা শুরুর আগে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় এবং খেলোয়াড়, ম্যাচ আধিকারিক ও ধারাভাষ্যকাররা কালো বাহুবন্ধনী ধারণ করেন। বিসিসিআই এই ম্যাচটিকে কোনও রকম জৌলুস ছাড়াই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিসিসিআই-এর সম্মাননীয় সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া বলেন, “পাহালগামের নৃশংস সন্ত্রাসবাদী হামলায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানিতে ক্রিকেট মহল গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
গুজরাট সরকারের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল পাহালগামের হামলায় নিহত গুজরাটের পর্যটকদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।
পাকিস্তানকে নিষেধাজ্ঞার দাবি
ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টির নেতা জামিল মাকসুদ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান লস্কর-ই-তৈয়বা ও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে মদত দিচ্ছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক

পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরে হামলার পর ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানাতে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, এই কমিটি আজ বৈঠকে বসবে।
ভাবনগরের নিহতদের দেহ আহমেদাবাদে
পাহালগামের হামলায় নিহত ভাবনগরের বাবা ও ছেলের দেহ গতকাল রাতে আহমেদাবাদে পৌঁছেছে। গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঋষিকেশ প্যাটেল বিমানবন্দরে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত
পাহালগামের সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটির নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে।
সিন্ধু জলচুক্তি কী?
সিন্ধু জলচুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত একটি জলবন্টন চুক্তি। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় নয় বছর আলোচনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ সিন্ধু অববাহিকার জল ব্যবহারের অধিকার লাভ করে।
চুক্তি কীভাবে কাজ করে?
চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বের নদীগুলি – রবি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের এবং পশ্চিমের নদীগুলি – সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। এই চুক্তিটি দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের মধ্যে জলবন্টন নিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছিল।
চুক্তি স্থগিতের প্রভাব
ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। জল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির স্থগিতাদেশ পাকিস্তানের কৃষি ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ সিন্ধু নদীর জল পাকিস্তানের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
জামাত-ই-ইসলামী হিন্দের নিন্দা

জামাত-ই-ইসলামী হিন্দ (JIH) মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস খান ফালাহি পাহালগামের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর শ্রীনগর সফর
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে রাজ্যের আটকে পড়া মানুষদের সাহায্য করার জন্য শ্রীনগরে যাচ্ছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা পাহালগামের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
ভিএইচপি ও বজরং দলের প্রতিবাদ
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা গতকাল নাগপুরে পাহালগামের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেন।
কার্তিক আরিয়ানের শোক
অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান পাহালগামের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই ধরনের জঘন্য কাজ ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
বিহার জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিহার সফরের আগে পাহালগামের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-নেপাল সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। বিহারের ডিজিপি বিনয় কুমার এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গত ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসবাদীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করেছে এবং বহু মানুষকে আহত করেছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীরা একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পরিচয় জানার পরই তাদের উপর হামলা চালায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৪শে এপ্রিল বিহারের দ্বারভাঙা ও মধুবনীতে সফরে যাবেন। অতীতে এই এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর স্লিপার সেল সক্রিয় ছিল এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলিতে তাদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সীমান্ত জেলাগুলিতেও এই ধরনের স্লিপার সেলের উপস্থিতি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সমস্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও স্লিপার সেলের সদস্যদের উপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজবিরোধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অবিলম্বে ব্যাপক যানবাহন তল্লাশি শুরু করতে হবে এবং জনবহুল স্থান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, মল ও ধর্মীয় স্থানগুলিতে নজরদারি বাড়াতে হবে। জেলার এসএসপি/এসপি-কে ব্যক্তিগতভাবে এই প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করতে হবে।
ভারত সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপগুলি পাহালগামের নৃশংস হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সরকার সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চেয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তগুলির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কতটা হবে, তা সময়ই বলবে।
🌐 আরও পড়ুন @ https://bangaakhbar.in/
2 thoughts on “ভয়াবহ পাহালগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা: ২৮ জনেরও বেশি নিহত, শোকের ছায়া কাশ্মীর উপত্যকায়”